পলি নামের এক মেরু ভল্লুক ছিল।
সে উত্তর মেরুতে তার মায়ের সঙ্গে এক বরফের গুহায় বাস করতো। সে সারাদিন এদিক ওদিক
ঘুরে বেড়াতো আর খেলত। কিন্তু পলি বরফ আর আর্কটিক মহাসাগরের ঠাণ্ডা পানি ছাড়া জীবনে
কিছু দেখেনি।
বড় হওয়ার পর পলি ভাবল জীবনে এই
বরফ আর ঠাণ্ডা পানি ছাড়া কি আর কিছুই দেখার নাই? সে মাঝে মাঝে মাথার উপর দিয়ে উড়ে
যাওয়া গাং চিলদের সঙ্গে কথা- বার্তা বলতো। তারা এমন এমন দেশের কথা বলতো যেখানে বরফ
নাই; বরং জমিন সবুজ ঘাসে ঢাকা, সাগরের পানি উষ্ণ এবং সাগরের পানিতে অনেক মাছ খেলা
করে।
দিনে দিনে পলির মনে ওই রকম দেশে
যাওয়ার খুব ইচ্ছে করতে লাগলো।
একদিন তার সঙ্গে এক সামুদ্রিক
পাখীর দেখা হল। এই আজব পাখী অন্য গাং চিলের মতো না। পলি তাকে তার স্বপ্নের কথা
বলতেই সেই পাখী বলল, “তো বেশ তো। এটা কোন ব্যাপার হল? আমি
জাদু জানি। তুমি এখনই দেখবে”।
আর কি তাজ্জব ব্যাপার! পলি
দেখতে পেলো পাখীটির সঙ্গে সে এক নতুন দেশে বসে আছে। তার থাবার নীচে গরম বালু। দূরে
অনেক খেজুর গাছ। আর সাগরের পানি কি ঘন নীল।
পাখী জিজ্ঞেস করলো- “ কেমন লাগছে তোমার?”
পলি বলল, “
খুবই সুন্দর । কিন্তু এত আলো আর বড় গরম”।
পাখী এই কথা শুনে তাকে আবার
চোখের পলকে আরেক দেশে নিয়ে গেলো।
এই দেশটির মাটি যতদূর চোখ যায়
সবুজ ঘাসে মোড়া। মাঠের মধ্যে মধ্যে বেড়া দেওয়া খামারে অনেক ভেড়া-গরু চড়ে বেড়াচ্ছে।
পলি ওদের দেখে ভাবল, “ আহা । ওদের কি কষ্ট! কোথাও ইচ্ছে
মতো বেড়াতে পারে না। কিন্তু এই দেশটাও অনেক গরম”।
সঙ্গে সঙ্গে আজব পাখী তাকে অন্য
আরেক দেশে নিয়ে গেলো। এই দেশে অনেক উঁচু উঁচু গাছ। আর পলির পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে
ঝর্ণা ধারা। কিন্তু বাতাস ঠাণ্ডা আর ভেজা ভেজা। পলি পাখীকে বলল, “
আমার এই জায়গাও ভালো লাগছে না। এত উঁচু গাছ! যদি আমার ওপর ভেঙে পড়ে”।
চোখের পলকে আবার পলি নিজের
বাড়ীতে ফিরে এলো। সে ঠাণ্ডা বাতাসে বুক ভরে দম নিলো আর থাবা দিয়ে বরফ ঘষতে লাগলো।
আজব পাখী বলল, “ বন্ধু এখন তুমি নিশ্চয়ই খুশী। কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না এতো
সুন্দর সুন্দর দেশের একটিও তোমার কেনও ভালো লাগলো না?”
পলি এতো দেশ ঘুরে খুব ক্লান্ত
হয়ে পড়েছিলো । সে শুধু হাসল। উত্তরের আলোর বর্ণালীছটা তার শরীরে এসে পড়লো আর পলি
আপন মনে বলল,“নিজের দেশই পৃথিবীতে সবচেয়ে সেরা। নিজের
ঘরের মতো আপন কোন জায়গা নেই”। এরপর সুখী ভল্লুক ঘুমিয়ে
পড়লো।



No comments:
Post a Comment