অবশেষে
তুতু কচ্ছপ বিশ্ব ভ্রমণে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলল। ওর কথা শুনে পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধব সবাই তো হেসেই খুন।
বাবা
কচ্ছপ বললেন, “ তুতু পাগলামি করো না। আমি শুনেছি দুনিয়াটা
অনেক বড়। তুমি ছোট বাচ্চা। তুমি এটা পারবে না”।
তুতুর
ছোট বোন বলল, “ তুমি তো আমার মত সাঁতার দিতেও পার না”।
তুতুর
দাদা বললেন, “ বোকামি করিস না দাদু”।
কিন্তু
তুতুর এক কথা। দুনিয়াটা এবার নিজেই ঘুরে দেখবে।
অতএব
একদিন সকাল বেলা বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সবাইকে বিদায় জানিয়ে তুতু সাগরে ঝাঁপ
দিল।
কিন্তু
সাগরে সাঁতার দিয়ে তুতু কিছু দূর যেতে না যেতেই খুব ক্লান্ত হয়ে গেল।
ওখান
থেকে সে তার মা এবং বোনকে দেখতে পাচ্ছিল । ওরা সাগর পারে খেলা করছে। তার মনে হল
এভাবে বিশ্ব ভ্রমণে বের হয়ে কাজটা ভাল হয়নি। কিন্তু এখন ফিরে গেলে সবাই কি বলবে?
তাই তুতু সাঁতার দিতেই থাকলো ।
ঘণ্টা
দুয়েক সাঁতরানোর পড়ে তুতু সত্যিই আর পারছিল না। মনে হচ্ছিল ওর পাখনা খুলে যাচ্ছে ।
সে খুব ভাল ভাবেই টের পাচ্ছিল এখন আর তার পক্ষে সাঁতরে তীরে ফেরাও সম্ভব না।
“আমি আসলেই একটা বোকা ।
এভাবে বের হয়ে কি ভুলটাই না করেছি”! মনে মনে ভাবল তুতু।
এর পর আর তার কিছু মাথাই আসছিল না। সাগরের গভীর পানিতে সে তলিয়ে যেতে শুরু করলো।
কিন্তু
কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ তুতু ভুস করে ভেসে উঠলো । কে যেন সাগরের ভিতর থেকে তাকে পানির উপর বাতাসে ছুঁড়ে দিয়েছে। তুতু আবার
সূর্যের সোনালী আলো দেখতে পেল এবং একটু পরেই একটা তিমি মাছের পিঠের ওপর ধপ করে পড়ে
গেল।
“আহা বাছা তোমার ব্যথা
লেগেছে কি? তোমাকে আবার পানিতে নামিয়ে দেব কি”? তিমি মাছ
খুব মিষ্টি স্বরে তাকে জিজ্ঞেস করলো।
“না । না । আমি তো ডুবতে
বসেছিলাম। তুমি তো আমায় প্রাণে বাঁচালে”- তুতু হাঁপাতে
হাঁপাতে তিমিকে বলল। এর পর সে তিমি মাছকে
তার সব কাহিনী শোনাল ।
“এ আর এমন কি বিষয় ! আমি
তো মাঝে মাঝে দুনিয়াটা ঘুরেফিরে দেখি। তুমি যাবে আমার পিঠে ?”
তিমি মাছ তুতুকে শুধাল।
তুতুর
তো আনন্দে দম যায় যায়। তবে তার স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে?
অতঃপর
তিমি মাছের পিঠে চেপে তুতুর বিশ্ব ভ্রমণ
শুরু হল। অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে তুতুর সময়টা কেটে গেল। এই সাগর থেকে সেই সাগর-মহাসাগর
পেরিয়ে পাক্কা এক বছর পরে তুতু বাড়ীর পাশে সাগর তীরে এসে নামলো ।
বাড়ীর
সবাই তো ওকে দেখে মহাখুশী।
“আমার হাঁস ছানাটা
ফিরেছে?” বাবা কচ্ছপ চিৎকার করে উঠলেন।
“সোনামণি কাজটা কি
খুব কঠিন? খুব কষ্ট হয়েছে বাছা?” মা কচ্ছপ বুকে টেনে তুতুকে আদর করে জিজ্ঞেস করলেন।
তুতু
শুধু মিটিমিটি হাসল ।
বলল,
“ মোটেও না। আমার বন্ধু তিমি ছিল না”।

No comments:
Post a Comment