দিগন্ত
জোড়া সবুজ মাঠ, কুল কুল বয়ে যাওয়া ছোট নদী আর ছায়া ঘেরা গ্রাম পেরিয়ে দূরে যে ঘন
জঙ্গল দেখা যায় ওখানে বাস করে অনেক পাখী । তাদের মধ্যে অনেক বন্ধুত্ব। সবাই
মিলেমিশে ওই জঙ্গলে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ওরা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে । সারাদিন পরে
সূর্য ডুবার সময় নীড়ে ফিরে আসে। রাতে আরাম করে ঘুমায়। এভাবেই চলছিল ।
একদিন
সকাল বেলা ময়ূর তার সুন্দর রঙিন পেখম মেলে নাচ ছিল। হঠাৎ সে লম্বা এক দীর্ঘ শ্বাস
ছাড়ল ।
পাশ
দিয়ে বানর তখন কলা গাছের দিকে যাচ্ছিল । সে জিজ্ঞেস করলো, “ কি ব্যাপার? এতো লম্বা
শ্বাস ছাড়ছ যে ভারী?”
ময়ূর
ধীরে ধীরে বলল, “ না তেমন কিছু না। আমার লেজ দেখে ভাবছি এটা কত সুন্দর রঙিন!”
“কি?
তাই নাকি? কিন্তু ওটা তো আমার লেজের মত সুন্দর না । আমার দিকে তাকিয়ে দেখ । লাল,
হলুদ, সবুজ, নীল- কি রঙের বাহার! আর তোমার পেখমের চেয়ে কত উজ্জ্বল”। মাথার ওপরের ডালে
বসে থাকা টিয়ে পাখী বলে উঠল।
“দেখ
কত অহংকার । কিন্তু আমার সফেদ সাদা পালক তোমাদের চেয়ে অনেক সুন্দর”। পাশের আরেক
গাছের ডালে বসে থাকা ঘুঘু চিকন সুরে বলল।
এভাবে
পাখীরা সারাদিন এবং সারারাত ঝগড়া করতে থাকল। রাতের জঙ্গলে আর কোন পশু-পাখি ঘুমোতে
পারলো না। এতে সবাই খুব বিরক্ত হল।
পরের
দিন সকাল বেলা। পাখীরা তখনও ঝগড়া করছে।
কিন্তু পুরো জঙ্গলে সুনসান নীরবতা। কি ব্যাপার? জঙ্গলের রাজা বাঘ মামা আসছে।
পাখীদের কিচির-মিচির ঝগড়ার কারণে রাতে বাঘ মামার ভাল ঘুম হয়নি। তাই সকাল সকাল নিজেই
দেখতে এসেছে ব্যাপারটা কি?
বাঘ
মামা পাখীদের কাছে এসে হুঙ্কার দিয়ে বলল, “ হালুম। ঘটনা তাহলে এটাই । তো বেশ তো।
আমি এই বনের রাজা। তোদের মধ্যে যে সবচেয়ে সুন্দর তাকে দিয়েই তো আমি আজকের সকালের
নাস্তা করবো। তোরা এখন তাড়াতাড়ি বল, কে সবচেয়ে সুন্দর? এ প্রতিযোগিতায় যে বিজয়ী আমি তাকেই খাব”।
বাঘ
মামার কথা শুনে সব পাখী তো চুপ। কারও মুখে আর রা নেই।
বাঘ
মামা আবার হুঙ্কার দিতেই ময়ূর বলে উঠল, “ আসলে হয়েছে কিনা আমার অনেক পালকের রঙ
জ্বলে গিয়েছে”।
টিয়ে
বলল, “ আমার পা দুটো একেবারেই সুন্দর না”।
ঘুঘু
বিড়বিড় করে বলল, “আমি খুবই সরল-সহজ একটা পাখী”।
“হুম।
তা হলে আর তোরা ঝগড়া করিস না”। বলেই বাঘ মামা গড় গড় করতে করতে জঙ্গলের ভিতরে চলে
গেল।
তারপর
থেকে পাখীরা আর কখনও ঝগড়াঝাঁটি করে না।

No comments:
Post a Comment