আমাদের ছোট মাছটির নাম পরী ।
পরী প্রবাল দ্বীপের পাশে বাস করে। সাগরের পানি ওখানে বেশ গরম আর নীল। পরীর চারপাশে
আর অনেক মাছ ঘুরে বেড়ায় । কারও রঙ হলুদ, কারও রঙ কমলা। কারও গায়ে আবার ছোপ ছোপ
দাগ, কারও গায়ে ডোরা কাটা দাগ। ওখানে গোলাপি রঙের মাছ আছে, নীল-সবুজ রঙের মাছও
আছে।
কিন্তু পরীর গায়ে কোন রঙ নাই,
কোন ফোঁটা নাই কিংবা ডোরা কাটা দাগও নাই।
তার অন্যদের মতো সুন্দর ডানা
নেই; সে উড়ন্ত মাছের মত সাগরের পানি থেকে
লাফ দিয়ে বাতাসে ভেসে থাকতেও পারে না। তার আসলে চোখে পড়ার মতো কোন বৈশিষ্ট্যই নাই।
সে ম্যাট ম্যাটে ধূসর রঙের একটি মাছ। সারাদিন সাগরে ভেসে বেড়ালেও কেউ তাকে দেখে
না। এজন্য তার মনে অনেক দুঃখ।
“সবাই কি আর চকমকে হয়। তুমি যেমন আছো, তাতেই তুমি সুন্দর
বাছা। এটা নিয়ে দুঃখ করো না”- পরীর মা তাকে সান্ত্বনা
দিয়ে কথাগুলো বলে।
কিন্তু পরীর মনের দুঃখ যায় না।
তার ইচ্ছে সবাই তাকে দেখুক। তার রঙ, তার
গায়ের নকশা দেখে প্রশংসা করুক। এজন্য সে সাগরের নানারকম সবুজ লতা-গুল্ম গায়ে জড়িয়ে
রাখে। কিন্তু কেউ তা দেখতে পায় না। বরং লতা-গুল্মের আড়ালে তাকে কেউ আর দেখতেই পায়
না।
অনেক সময় অন্য মাছেরা তাকে নিয়ে
ঠাট্টা-মশকরা করে। তাকে ইচ্ছে করে গুঁতো দিয়ে বলে, “ আহা।
দুঃখিত পরী। আমি না তোমাকে দেখতেই পায়নি। আমি তোমাকে এক দলা কাদা মনে করেছিলাম। হি
হি হি”।
একদিন হয়েছে কি? পরী বিকেল বেলা
সাগরে কতগুলি পাথরের ফাঁকফোকর দিয়ে ছুটোছুটি করছিলো। আর অকস্মাৎ পাশের পানিতে ভীষণ
আছাড়-পিছাড়। পরী কতগুলি সাদা চকচকে ছুড়ির মতো দাঁত দেখতে পেলো । আর দেখতে পেলো লাল
মাছ, গোলাপি মাছ, ডোরা কাটা মাছ এবং ফোঁটা কাটা মাছকে গপ করে গিলে ফেললো। তারপর
হাঙরটা ধীরে ধীরে সাঁতরে অন্যদিকে চলে গেলো। পরীকে অবশ্য হাঙরটা দেখতেই পায়নি।
পরী ওর লতা-গুল্ম ঢাকা পাথরের
আড়াল থেকে বের হয়ে চারদিকে ফালুক-ফুলুক তাকাল। হাঙরটা আসলেই চলে গিয়েছে। সে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। আজ সে বুঝতে পেরেছে চকমকে মাছ হওয়া
ভালো নাকি ম্যাটম্যাটে সাদামাটা মাছ হওয়া ভালো। তার মাকে এই কথাগুলো বলার জন্য সে আরও
জোরে জোরে সাঁতার দিতে থাকলো।


No comments:
Post a Comment