আমাদের
ছোট্ট ইঁদুর ছোট্ট একটা বাড়ীতে বাস করতো। বাড়ীটা সে নিজের হাতে বানিয়েছিল । কৃষকের
বাড়ীতে কুমড়োর মাচার নীচে ছোট্ট খোঁড়ল করে সেই বাড়ীতে ইঁদুর থাকতো। বেশ সুখেই তার
দিন কাটছিল।
একদিন
ইঁদুর বাড়ী থেকে বের হয়ে অনেক দূরে খাবারের সন্ধানে চলে গিয়েছে। অনেক দিন ধরে তার
জাম খাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছিল। তাই জামের সন্ধানে বেশ দূরেই চলে গিয়েছিল । এদিকে কৃষক
বাড়ীর চারপাশে জঙ্গল- আগাছা পরিস্কার করতে এসে কুমড়োর মাচার নীচে ইঁদুরের বাড়ীও
ভেঙে দিলো।
ফিরে
এসে ইঁদুর দেখে তার বাড়ী উধাও। তার মন খুব খারাপ হল। বছরের শেষ। আর কদিন পড়েই শীত
শুরু হবে। বাড়ী ছাড়া এই শীতে কি ভাবে বাস করবে। ইঁদুর ভেবে কোন কুল-কিনারা করতে
পারলো না। অবশেষে ছোট একটা ঝুড়িতে কিছু গম আর ভুট্টার দানা নিয়ে বেচারা নতুন বাড়ীর
সন্ধানে বের হয়ে পড়লো।
একটা
ইঁদুর খুব ছোট্ট। তার তো আর বড় বাড়ী লাগে না। সে ভাবল তেমন একটা বাড়ী সে খুব সহজেই
পেয়ে যাবে। কিন্তু তার ধারণা একেবারেই ভুল। কিছু সময়ের ভিতরেই ইঁদুর বুঝতে পারলো।
কিছুদূর
যেতেই তার চোখে পড়লো একটা বড়সড় ফুলের টব।
“ ফুলের টবটা বসবাসের
জন্য মন্দ না”- ইঁদুর ভাবল।
“ এটা আমার বাড়ী”- এক মস্ত কলা ব্যাঙ ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর করে বলে উঠলো।
এরপর
তার চোখে পড়লো একটা গাছের খোঁড়ল।
“এই গাছের খোড়লে তো আমি
দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারি”- ইঁদুর মনে মনে ভেবে এগিএ গেলো।
“আমার সঙ্গে থাকতে আসিস
না”- ডানা ঝাপটে এক হুতুম পেঁচা চীৎকার করে উঠলো।
এরপর
তার চোখ গেলো খড়ের গাদার নীচে একটা গর্তের দিকে।
“শীতের জন্যও জায়গাটা বেশ
আরামের হবে”- ইঁদুর ভেবে আনন্দিত হল।
কিন্তু
ওখানে ঢুকতে যেতেই এক ধাড়ি ছুঁচো তেড়ে এলো। বলল, “ এখানে
কি চাস? শীগগির ভাগ বলছি”।
বেচারা
ইঁদুর সারাদিন সারারাত পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে গেলো। খিদেয় তার পেট
চোঁচোঁ করতে লাগলো। হাতে যা গম আর ভুট্টা ছিল সব শেষ হয়ে গেলো। এদিকে শীতের বাতাস
বইতে শুরু করেছে। শীতে হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে সে হেঁটে চলল।
সহসা
সকাল বেলা সে হাঁটতে হাঁটতে একটু আনমনা
হয়েছে আর ধুপ করে এক গর্তের ভিতর পড়ে গেলো। গর্তের ভিতর পড়েই সে অবাক- ওমা এ দেখি
সেই আগের বাড়ীটার মতোই একটা বাড়ী। আর বাড়ীটা বেশ সাজানো গোছানো । তার মানে নিশ্চয়ই
কেউ এখানে বাস করে। তারপরে একটু এগুতেই আরেক ইঁদুরের সঙ্গে তার দেখা। ওই বাড়ীতে সে
একাই বাস করে। দেখতে আমাদের ছোট্ট ইঁদুরের মতোই ; কিন্তু এটা একটা মেয়ে ইঁদুর।
অবশেষে
আমাদের ছোট্ট ইঁদুর একই সঙ্গে তার বাড়ী এবং বউ পেয়ে গেলো। ইঁদুরের বউ ইঁদুরকে খুবই
খাতির যত্ন করে বসতে দিলো। বার্গার আর কেক খেতে দিলো। এর পর থেকে দুজন বেশ
শুখে-শান্তিতেই দিন কাটাতে লাগলো।
বছর
কয়েক পরে সেই ছোট্ট ইঁদুরের বেশ কয়েকটা নাতি-পুতিও হয়েছে। তারা খেলতে গিয়ে আঘাত
পেলে কাঁদতে কাঁদতে তার কাছে আসে। সেই ছোট্ট ইঁদুর তখন তাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলে, “ জানিস দাদু আমি আমার বাড়ী হারিয়েছিলাম বলেই না এই বাড়ীটা আর
তোর দাদীকে পেয়েছি। কাজেই খারাপ কিছু হলে ভয় পাস নে । ওর ভিতরেই কিছু ভাল লুকিয়ে
আছে। মেঘ দেখে তোরা ভয় পাস নে, ওর আড়ালেই সূর্য আছে”।


No comments:
Post a Comment