Tuesday, 12 February 2013

ক্ষুদে বন্ধু




অনেক অনেক দিন আগে এক জঙ্গলে এক মস্ত ম্যামথ বাস করতো। ম্যামথ যেমন আকারে মস্ত ছিল, তেমন তার পুরো শরীর জোড়া লোমে ভরা। তাকে দেখতে ভয়ংকর মনে হলেও আসলে সে খুব নম্র-ভদ্র আর দয়ালু ছিল।  সে শুধু গাছের পাতা আর ঘাস খেতো। কিন্তু অনেক পাতা আর ঘাস লাগতো। এজন্য সে সব সময় চলতে থাকতো আর ঘাস-পাতা দিয়ে পেট ভরত।
একদিন ম্যামথ জঙ্গলে গাছ থেকে পাতা পেড়ে খাচ্ছিল। এমন সময় সে খুব মিহি গলায় কারও চীৎকার শুনতে পেলো এবং তার কানে কে যেন সুড়সুড়ি দিচ্ছিল। সে এদিকওদিক মাথা দুলাল । কিন্তু কাউকে দেখতে পেলো না। একটু চুপ থাকতেই সে আবার ওই চীৎকার শুনতে পেলো, আমাদের দয়া করে মেরো না। ম্যামথ আমাদের ওপর তোমার ভারী পা চাপিয়ে দিও না
এই কথা শুনে ম্যামথ পায়ের নীচে তাকিয়ে দেখে ছোট্ট একটা পাথরের পাশে অনেক ক্ষুদে মাকড়সা দৌড়াদৌড়ি করছে। আরেকটু হলেই ম্যামথ ওদের গায়ে পাড়া দিত। মা মাকড়সা করুণ কণ্ঠে বলল, দয়া করে আমার বাচ্চাদের গায়ে পা দিও না। মা মাকড়সা ম্যামথের কানের পাশেই একটা সুতো থেকে ঝুলছিল।
আগেই বলেছি ম্যামথ খুব দয়ালু ছিল। তাই সে সাবধানে মাকড়সাদের গায়ে পা চাপা না দিয়ে অন্যদিকে চলে গেলো।
এর কয়েকদিন পরে ম্যামথ জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এমন সময় সে শোরগোল শুনতে পেলো। ম্যামথ জানতো মানুষ বর্শা দিয়ে ম্যামথ শিকার করতে ভালবাসে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সে অন্য পথে রওনা দিলো।
কিন্তু শিকারিরা আগেই তাকে দেখে ফেললো। ম্যামথের কানের পাশ দিয়ে একটা বর্শা চলে গেলো। শিকারিদের হৈচৈ আর চীৎকার জোরে জোরে শুনা যাচ্ছে। ম্যামথ কোন উপায় না দেখে পাশেই একটি পাহাড়ের গুহার ভিতরে ঢুকে গেলো। প্রথমে তার নিকট এটা লুকোনোর জন্য ভালই মনে হয়েছিল । কিন্তু গুহার ভিতরে ঢোকার পরে সে বুঝতে পারলো খুব ভুল হয়ে গিয়েছে। গুহা থেকে বের হওয়ার আর কোন পথ নাই। আজ সে নির্ঘাত শিকারিদের হাতে ধরা পরে যাবে।
এমন সময় খুব মিহি সুরে কে যেন বলল, ভয় পেয়ো না। এক দিন তুমি আমাকে দয়া করেছিলে । আজ আমি তোমাকে সাহায্য করবো

এই কথা বলেই সেদিনের সেই মাকড়শা অতি দ্রুত গুহার মুখে জাল বুনে দিলো।
শিকারিরা এসে গুহার মুখে মাকড়শার জাল দেখে বলল, এখানে তো ঢুকতে পারে না। গুহার মুখ জুড়ে তো শুধু মাকড়শার জাল। তারপরে তারা অন্যদিকে চলে গেলো।
স্বস্তির শ্বাস ছেড়ে ম্যামথ বলল, তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু ম্যামথের ক্ষুদে বন্ধু তখন অন্য কোথাও চলে গিয়েছে। বিশাল ম্যামথ এরপর আর কখনও সেই ক্ষুদে মাকড়সার মিহি সুরের কথা শুনতে পায়নি।